Friday, 27 March 2015

উম, আসাদ ভাইয়া না, ওহ ভাবীর সাথে ছবিটা তো জব্বর হইছে, ভাবীকেও যা লাগতেছে না,কি টানা টানা চোখ, ইচ্ছা করছে ১০০০টা লাইক দেই ।



আমরা ফেসবুকে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তুলে আপলোড করি, নিজের ছবি তো আছেই, সাথে আবার স্ত্রীর ছবিও, এ কেমন বেহায়াপনা আমাদের, বুঝলাম না । নিজের স্ত্রীকে অন্যে দেখুক,নিজের স্ত্রী অন্যের পণ্য হউক, এটা কি আমরা চাই? আমার স্ত্রী কালা না ফর্সা, চিকন না মোটা, খাট না লম্বা, ঠোটটা কেমন, দাত গুলো কেমন, নাকটা কেমন,কপালটা কেমন, চুল কেমন -------------------ইত্যাদি, এগুলো কি মানুষকে দেখানোর জন্য ? ইসলামি কালচার এ সম্পর্কে কি বলে? আপনি হয়ত বলবেন, এগুলোর সাথে যারা জড়িত তারা তো ইসলামের বাহিরের লোক, এ কিভাবে সম্ভব? আমি যে তাদের সবার নামই দেখলাম ইসলামিক, কত সুন্দর নাম! আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান,---- আসলে এদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানই নাই, এরা যদি এদের নিজের নামের অর্থও জানতো আর তার যথাযথ হ্বাক আদায় করত, তাহলে এরা কখনই এই রকম বেহায়াপনা কাজের সাথে সম্পৃক্ত হত না ।
ইসলামের দৃষ্টিতে ছবি তোলাই হারাম, যদিও এ যুগের আলেমেরা শুধু মাত্র প্রয়োজনের তাগিদে ছবি উঠানো যাবে বলে মতামত দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন যন্ত্রদিয়ে ওপেন করা লাগে সেগুলো উঠানো যেতে পারে(তাও প্রয়োজনে) সেখানে আপনি আপনার স্ত্রীর ছবি আপলোড করছেন বিভিন্ন ভঙ্গিমায়, হায় আফসুস এই মুর্খ জাতীর জন্য ।
হাদীছে বর্ণিত হয়েছে দাউস ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে, দাউস ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে তার নিজের স্ত্রীর বেহায়াপনাকে নিষেধ করে না ।(হাদীছটির সঠিক বর্ণনা এবং রেফারেন্স আমার এই মুহুর্তে মনে নাই, পরে এডিড করে দেওয়া হবে-ইনশাআল্লাহ)আর আপনি কি করছেন? আপনার নিজের স্ত্রীকে বেহায়াপনা শিক্ষাচ্ছেন ।আর আমরা কি করছি? তা নয়ন ভরে দেখছি, তা থেকে অন্তরে সুখ অনুভব করছি, আর চিন্তা করছি ১০০০টা লাইক দিতাম । ফলে আমার কি হল? একাধারে চোখের যেনা, অন্তরের যেনা করলাম আবার যার পোষ্টটাকে লাইক দিলাম তাকে সমর্থন করলাম যে, তুমি চালাইয়া যাও পরবর্তীতে আবারও লাইক দিব, হারাম কাজে সমর্থনের মাধ্যমে নিজেও পাপের অংশীদ্বার হলাম ।
আল্লাহতায়ালা বলেনঃ “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাযত করে।এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন । ঈমানদ্বার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাযত করে । তারা যেন যা সাধারনতঃ প্রকাশ মান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে -----নুর-৩০-৩১”
সুতরাং কোন কিছুতে লাইক দেওয়ার আগে ভেবে চিন্তে লাইক দিন, যাতে অন্যের করা পাপ নিজেকে বহন করতে না হয় । আর যে পোষ্ট করবেন, সেও ভেবে দেখবেন, আপনার পোষ্টে কি অনৈতিক কিছু আছে?

আপনি কি সুদের সাথে সম্পৃক্ত আছেন ? আপনি মুসলীম হলে আজ এবং এখনই উহা পরিত্যাগ করুন আর আল্লাহর নিকট তাওবা করুন ।



আল্লাহতায়ালা বলেন, “হে ইমানদ্বার গন,তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না ।আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যান অর্জ়ন করতে পার ।এবং তোমরা সে আগুন থেকে বেচে থাক, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ।(আল-ইমরান-১৩০-১৩১)”
“যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যে ভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে পাগল করে দেয় ---------- আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই জাহান্নামে যাবে । সেখানে তারা চিরকাল থাকবে । ( বাকারা- ২৭৫)”
“হে ইমানদ্বার গন, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর,যদি ইমানদ্বার হয়ে থাক ।অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও -------।(বাকারা-২৭৮-২৭৯)
উপরোক্ত আয়াত থেকে আমরা সুদের পাপের ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পারি, যেমন বলা হয়েছে- আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে যুদ্ধ করা এবং জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করা (আল্লাহ আমাদের এই আযাব থেকে রক্ষা করুন- আমীন)
যদি আমি জিজ্ঞাসা করি-  মানুষ কখন সুদের লেনদেন করে ? কেউ হয়তো বলবে-মানুষ যখন বিপদে পরে তখন নিরুপায় হয়ে এই পথ অবলম্বন করে ।
মানুষের বড় বিপদ কোনটি?- তার জীবন বাচান ।
তার জীবন বাচানোর প্রথম মৌলিক চাহিদা কি ?-খাদ্য ।
তাহলে এই দু’মুঠো ভাতের(খাদ্যের)জন্যই কি মানুষ সুদের পাপে লিপ্ত হয় । আমি বলব না, দু’মুঠো খাদ্যের জন্য কখনও মানুষ এহেন পাপে নিজেকে জড়াবে না, যদি তার পাপ সম্পর্কে জ্ঞান থাকে । আপনি বলতে পারেন-, অনেকেই আছে যারা দু’মুঠো খাদ্যের জন্যই এই পাপে লিপ্ত হয় । তাহলে আমি বলব, আপনার মত ও আমার মত নামধারী মুসলীমই এর জন্য দায়ী কারন আমরা প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হয়েছি, এর জন্য আল্লাহ আমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন ।
প্রকৃত পক্ষে এ রকম ব্যক্তি খুবই কম যারা জীবন ধারনের নিমিত্তে সুদের পাপে লিপ্ত হয় । তাহলে কারা এই ভয়াবহ পাপে ডুবে রয়েছে ?
সমাজের প্রায় সকল শ্রেনীর লোকেই এই পাপ করছে, এমন ভাবে যে সে বুঝতেই চেষ্টা করছে না এতে তার পাপ হচ্ছে । সে এই সুদকে খুবই সহজ ভাবে নিয়েছে । ঐ সকল ব্যক্তি মনে করে আমরা সুদে টাকা নেই নাই, আমরা লোন নিয়েছি-সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, গ্রামীন ব্যাংক, ---- এই ব্যাংক-সেই ব্যাংক, এই সমিতি-সেই সমিতি এই ভাবে হাজারো প্রতিষ্ঠন থেকে তারা লোন নিচ্ছে , একটা প্রকল্প শেষ অন্য প্রকল্প হাতে নেয় । যেমন সম্ভ্রান্ত নাম সুদ নয় লোন, তেমন সম্ভ্রান্ত মানুষ এরা । এরা পাঁচ ওয়াক্ত ছ্বলাতও আদায় করে থাকে, নামায পড়তে পড়তে কপালে দাগ ফেলায়ে দেয়, লম্বা লম্বা দাড়িও রাখে, জুব্বা-টুপি পড়ে ঘোরা ফেরা করে, সমাজে বিচার সালিশ করে বেড়ায়, হ্বাজ্জও পালন করে কিন্তু সুদ বুঝে না, আফসোস এই শ্রেনীর লোকদের জন্য ।
আবু হুরায়রা(রাঃ)থেকে বর্ণিত । রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষের উপড় এমন  এক যুগ অব্যশই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবেনা যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল থেকে না হারাম থেকে ।(বুখারী-১৯৫৩ ইঃফাঃ)
মানুষ জীবন যাপনের জন্য নয়, বিলাসীতার জন্যই সুদে টাকা নিয়ে থাকে । মানুষের চাওয়ার কোন শেষ নেই । একের পর এক চাইতেই থাকে তবুও তার চাওয়ার শেষ হয় না ।
আল্লাহ বলেনঃ প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন রাখে, যতক্ষন না,তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও ।(তাকাসুর-১-২)
মানুষ কবরেই পৌঁছে যায় তবুও তার চাওয়ার শেষ হয় না, সেই প্রাচুর্য আমাদের চক্ষুদ্বয়ে পর্দার সৃষ্টি করেছে, আমরা দেখিয়াও দেখিনা, শুনিয়াও শুনি না ।
আমি নিচে কিছু উদাহরণ দিব, আপনি নিজেকে এবং আপনার প্রতিবেশীকে মিলিয়ে দেখুন এর মধ্যে পড়েন কি না ?
ঐ মানুষ সুদে টাকা নেয় যার দশ কিঃমঃ যাতায়েতের জন্য একটি বাইসাইকেল আছে কিন্তু তার যাতায়েতের জন্য একটি মটর সাইকেল হলে ভাল হয় এবং তার কাছে ৫০ হাজার টাকাও আছে, আরও ৫০ হাজার টাকা  হলে একটি মটর সাইকেল  ক্রয় করতে পারবে , এই অতিরিক্ত টাকাটি সে সুদে গ্রহন করে, এটি কি তার বিলাসীতা নয় । অথচ এই অতিরিক্ত টাকাটি সে আর কিছু দিন অপেক্ষা করলে নিজেই আয় করতে পারত কিন্তু সে ধৈর্য ধারণ করতে পারে নাই । আবার যে ব্যক্তির মটর সাইকেল আছে সে মাইক্রো ক্রয় করতে চায় --------।
ঐ মানুষ সুদে টাকা নেয় যার কোন শহরে একটি বাড়ী আছে কিন্তু রাজধানীতে একটি বাড়ী থাকলে ভাল হয় এবং তার নিকট রাজধানীতে বাড়ী করার জন্য অর্ধেক টাকা ও আছে । যার রাজধানীতে বাড়ী আছে সে উন্নত দেশে, আর যার উন্নত দেশে আছে সে মঙ্গল গ্রহে---------। 
ঐ মানুষ সুদে টাকা নেয় যে একটি ইন্ডাস্ট্রীর মালিক আর একটির মালিক হলে ভাল হয় ।
ঐ মানুষ সুদে টাকা নেয় যার একটি ইট নির্মিত বাড়ী আছে কিন্তু একটি পাথর-টাইলস নির্মিত বাড়ী হলে ভাল হয় ----------ইত্যাদি ।
এভাবে উদাহরণ দিলে চলতেই থাকবে শেষ হবে না, তাই আপনি কি করছেন নিজেই ভাল জানেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কি সুদের সাথে সম্পৃক্ত? থাকলে এখনই তওবা করুন ।
“হযরত ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন সুদখোরকে বলা হবে-“তোমরা অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও”-তিনি বলেনঃ যে সময় যিনি ইমাম থাকবেন তাঁর জন্য এটা অব্যশ কর্তব্য যে, যারা সুদ পরিত্যাগ করবে না তাদের তওবা করাবেন । যদি তারা তওবা না করে তবে তিনি তাদেরকে হত্যা করবেন । (তাফসীরে ইবনে কাছীর-বাকারা-২৭৯ আয়াতের ব্যাখ্যা)”
বিঃদ্রঃ সুদ দানকারী, সুদ গ্রহনকারী, সাক্ষ্য দানকারী এবং লিখক সবাই সমান পাপী -আপনি কি কোনটির সাথে সম্পৃক্ত ?